সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Boishakhi greetings Bengali New year পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

 পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা   নব আনন্দে জাগো নবরবিকিরণে,করোনা সংক্রমণে আমরা আমাদের অনেক প্রিয়জনদের হারিয়েছি , তা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পেরেছি। যেটা ছোট বেলায় মা বাবা খাবার আগে হাত ধোওয়া শিখিয়ে ছিল তাকে আবার নতুন করে শিখতে বাধ্য হয়েছি। তা ছাড়াও নিজেকে নিরাপদ রাখতে নতুন নতুন  কায়দা শিখতে পেয়েছি। করোনা কে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে এটা মনে রেখেই চলতে হবে। নতুন বছরে  পুরনো যত হতাশা, দুঃখ, অবসাদ,সেগুলোকে মুছে দিয়ে নতুন উদ্দমে সুস্বাস্থ্য, ভালোবাসা আর  উন্নতিতে ভরে উঠুক  এই নতুন বছর।  আশা করছি, এই নববর্ষ যেন সকলের  জীবনের শ্রেষ্ঠ বছর হয়, সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ ,সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকের  নিয়োগকর্তার  প্রত্যাশা পূরনের জন্যে সকলের প্রচেষ্টাও শ্রেষ্ট হোক এই কামনা করি। আর একবার নতুন বছরের অনেক অনেক সুভচ্ছা রইলো। সভাই ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ। 

The happiest day of life জীবনের সবথেকে আনন্দের দিন

 জীবনের সবথেকে আনন্দের দিন

জীবন হল আনন্দ এবং বেদনার একটি সংমিশ্রণ । কখনো আমরা আনন্দ পাই, কখনো বেদনা পাই। আমাদের জীবন আনন্দ এবং বেদনার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়।  মোট কথা, মানুষের জীবনে আনন্দের চেয়ে বেদনাই বেশি। আনন্দ আসে আর যায় এবং তারপরে, বেদনা চিরকাল আমাদের সাথে থাকে।

আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটি ছিল গত বছর যখন আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস ২৬ সে জানুয়ারী  উদযাপন দেখতে নতুন দিল্লি গিয়েছিলাম। এটি একটি মহান সাক্ষই বাহন করছে  এবং পুরো শহর একটি উত্সব মুখর  চেহারা নিয়েছিল . সবকিছু পরিষ্কার এবং পরিছন্ন ছিল.

ইন্ডিয়া গেটে আমরা আমাদের সিট আগেই বুক করে রেখেছিলাম। আমরা আরামদায়ক আসন পেতে খুব ভোরে গিয়েছিলাম। সমস্ত মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ইন্ডিয়া গেটে জড়ো হয়েছিল উদযাপন দেখতে। অনুষ্ঠানটি দেখতে দেশ বিদেশ থেকেও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসেছিলেন।

মৃদু সঙ্গীত বাজছিল। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইউনিফর্মধারী সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ঠিক ঠিক সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজপথে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতির চেয়ে ১০ মিনিট আগে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ডিফেন্স সার্ভিসেস তাকে স্যালুট দেয় এবং একটি মার্চ পাস্ট হয়। রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনীর স্যালুট গ্রহণ করতে দাঁড়িয়েছিলেন। নৌ ও বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্ট। ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস এবং স্কুলের শিশুরাও রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে শোভাযাত্রা করেন। কিছু স্কুল নৃত্যের আকারে অনন্য নাটক উপস্থাপন করেছিল এবং সেগুলি সত্যিই চোখে পরার মতো  ছিল। এরপর বিমান বাহিনীর বিমানগুলো সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর ফুলের (পাপড়ি) বর্ষণ করে।

এর পরেই বিভিন্ন রাজ্যের ঝাঁকি ট্রাকে চড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হলো । প্রতিটি রাজ্য ট্রাকের উপর দৃশ্য চিত্রিত করে তাদের সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখিয়েছে। সেখানে মণিপুরের উপজাতীয় নৃত্যশিল্পী, পাঞ্জাবের ভাংড়া, তামিলনাড়ুর মন্দির, ট্রম্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহারাষ্ট্রের অজন্তা ও ইলোরা এবং ইউ.পি. বারাণসী থেকে পণ্ডিতদের দৃশ্য দেখান হয় । এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রচুর  টাকা খরচ হয়েছে নিশ্চয়ই  কিন্তু এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিলো ।

পুরো মিছিলটি কনট প্লেসে গিয়েছিল এবং তারপরে আজমেরি গেট এবং পুরানো দিল্লি হয়ে ফতেপুরি এবং চাঁদনি চক হয়ে লাল কেল্লায় পৌঁছেছিল, যেখানে এটি শেষ হয়েছিল। মিছিলে মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রদূতরা সঙ্গী হননি। ইন্ডিয়া গেটে তারা আলাদা হয়ে যায় । ইন্ডিয়া গেট থেকে মিছিলটি লাল কেল্লায় পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা লেগেছিল।

এটি সম্পূর্ণরূপে আমার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান  ছিল আমার সবচেয়ে আনন্দের দিন।

মন্তব্যসমূহ

Popular post

The memorable event in my life আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা

 জীবনের কিছু ঘটে যাওয়া স্বরণীয় ঘটনা  তখন আর্টিকেলশিপ করি ,তাই অডিটের কাজে প্রায় ই  বাইরে যেতে হতো ,সেবার কোলফিল্ডস এর অডিট এ  বিলাসপুর গিয়েছিলাম। কিন্তু জায়গাটি বিলাসপুর থেকে অনেক ভিতরে ,তাই বিলাসপুর থেকে আবার  ট্রেনে উঠে অনুপপুর যেতে হবে। সেখান থেকে কোম্পানির গাড়িতে কোৎমা যেতে হবে আমাকে। বাকিরা ওই ট্রেনেই পর পর আমলাই ,বীরসিংপুর এ যাবে।  সেইমতো সবাই বিলাসপুর থেকে ট্রেনে উঠে পড়লাম। অনুপপুর সবার আগে এল ,তখন রাত সাড়ে ৯ টা বাজে।সবাইকে টা টা  করে স্টেশনে নেমে পড়লাম। স্টেশন এর বাইরে  SECL এর গাড়ী থাকবে , সাি মতো বাইরে বেরিয়ে গাড়ী খুঁজতে লাগলাম ,কিন্তু পেলাম না। তাই টেনশন বাড়তে লাগলো। আমি জানি যে আমাকে কোৎমা  SECL এর GUST HOUSE  এ যেতে হবে। গাড়ী ভাড়া খুজতে লাগলাম ,কিন্তু জানলাম সেটি অনেক দূর ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার হবে ,আর এত রাতে কেউ ওদিকে যাবে না। কিন্তু বাস বা ট্রেনে  যাওয়া যায়. রাতে ট্রেন নেই কিন্তু ১০.৪৫ সে লাস্ট বাস ছাড়বে। তরি ঘড়ি করে বাস এ উঠে পড়লাম।  বাস ছাড়লো কিন্তু নামবো কোথায় জানিনা। বাস কন্ডাকটর কে বললাম আমার যাওয়ার...

The story of the failure of life. জীবনের ব্যার্থতার গল্প বিশ্বের সেরা দশজন সফল মানুষের

The story of the failure of life.বিশ্বের সেরা দশজন সফল মানুষের জীবনের ব্যর্থতার গল্প আলবার্ট আইনস্টাইন:  আলবার্ট আইনস্টাইন একজন সুপরিচিত বিজ্ঞানী এবং অসাধারণ প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব যিনি বিজ্ঞানের প্রতি তার মহান আবিষ্কার এবং অবদানের কারণে সারা বিশ্বে আমাদের প্রায় সকলেই পরিচিত। তিনি উদ্ধৃত করেছেন যে সাফল্য হল অগ্রগতিতে ব্যর্থতা এবং যে ব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয় না সে সত্যিকারের সফল ব্যক্তি হতে পারে না। শৈশবকালে, তিনি ক্রমাগত ব্যর্থতার শিকার হন। এমনকি নয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন না যার পরে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু, ধারাবাহিকভাবে তিনি নিজেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাগরে একটি বিখ্যাত রত্ন হিসাবে প্রমাণ করেছিলেন এবং অবশেষে 1921 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। আব্রাহাম লিঙ্কন:  এই মহান ব্যক্তিত্ব যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিও ছিলেন তিনি বছরের পর বছর নিয়মিতভাবে ব্যাপক ব্যর্থতার শিকার হয়েছেন। 1831 সালে লিঙ্কন তার ব্যবসায় ব্যর্থ হন এবং তারপরে 1836 সালে তিনি একটি বড় স্নায়বিক ভাঙ্গন পান। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহি...

Amar Chele bela আমার ছেলে বেলা

জীবনে আমি কোনো বিশেষ স্থানে উপনীত হতে না পারলেও সবার মতো আমারও একটা ছোট বেলার কাল ছিল বৈকি ,যেমন সকলের থাকে ,তাই এই নিবেদন আপনাদের জন্যে।  আজকের অনুভূতিতে বলছি , স্কুলে জাওযার পথটা অনেক দূরে মনে হতো,কেন জানিনা। সেই কদমতলা মোর থেকে ডানদিকে বেঁকে ভোলাদের বাড়ির পেছনের রাস্তা দিয়ে বেনেদের ঘাট ,কালীমন্দির পেরিয়ে ডানদিকে ঢুকে স্কুলের গেট। সে এক লম্বা জার্নি , সে আবার দিনে দুবার করে , সকালে আবার দুপুরে টিফিন খেতে বাড়িতে আসা ,আবার যাওয়া। কিন্তু দূরত্ব ছিল ৭৫০ মিটার যেটা এখন বুঝতে পারছি।  সবমিলিয়ে এক দুরূহ সুন্দর অনুভূতি ,মনে হত স্কুলটা যদি বাড়িতে হতো তাহলে কত ভালো ছিল। তবে বাড়িতে স্কুল হলে রাস্তার এবং স্কুলের বদমহেসি গুলো যে করতে পারতাম না সেটা তখন কিন্তু মাথায় আসেনি।  যাইহোক স্কুল, বাড়ি আর খেলার মাঠ ,এই ছিল আমার বিশেষ গণ্ডি। মাঝে মধ্যে অবশ্য আসে পাশের বাড়ীর উঠোন খেলার মাঠে পরিণত হতো।  স্কুলের পড়াশুনার ব্যাপারে একটাই জিনিস মনে আসে ,মাস্টার মশাইদের হাতে মার খাওয়ার কথা, তা আবার বেতের ছড়ি দিয়ে ,হাতে রীতিমতো দাগ পড়ে যেত আর ভীষণ যন্ত্রনায় হতো। বাড়িতে সেকথা বলা যেত না কারণ বল...