সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Boishakhi greetings Bengali New year পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

 পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা   নব আনন্দে জাগো নবরবিকিরণে,করোনা সংক্রমণে আমরা আমাদের অনেক প্রিয়জনদের হারিয়েছি , তা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পেরেছি। যেটা ছোট বেলায় মা বাবা খাবার আগে হাত ধোওয়া শিখিয়ে ছিল তাকে আবার নতুন করে শিখতে বাধ্য হয়েছি। তা ছাড়াও নিজেকে নিরাপদ রাখতে নতুন নতুন  কায়দা শিখতে পেয়েছি। করোনা কে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে এটা মনে রেখেই চলতে হবে। নতুন বছরে  পুরনো যত হতাশা, দুঃখ, অবসাদ,সেগুলোকে মুছে দিয়ে নতুন উদ্দমে সুস্বাস্থ্য, ভালোবাসা আর  উন্নতিতে ভরে উঠুক  এই নতুন বছর।  আশা করছি, এই নববর্ষ যেন সকলের  জীবনের শ্রেষ্ঠ বছর হয়, সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ ,সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকের  নিয়োগকর্তার  প্রত্যাশা পূরনের জন্যে সকলের প্রচেষ্টাও শ্রেষ্ট হোক এই কামনা করি। আর একবার নতুন বছরের অনেক অনেক সুভচ্ছা রইলো। সভাই ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ। 

বন্ধুর বিয়ের গল্প কাহিনী The story of a friend's wedding

 বন্ধুর বিয়ের গল্প কাহিনী 

পাড়ার দাদা ধনা ,বয়সে আমাদের থেকে বড় হলেও বিয়ে করেনি ,তাই সবাই মাঝে মধ্যে তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। সবাই ধরে নিয়েছে ধনা আর বিয়ে করবে না। কারণ বয়স পেরিয়ে গেছে বৈকি। 

হটাৎ একদিন দেখলাম ধনাদার মুখে স্মিত হাসি আর সবাই তাকে ঘিরে গল্প করছে মোড়ের মাথায়। জানলাম দানাদার বিয়ে ঠিক হয়েছে পাশের গ্রামে। মেয়ের বয়স ও চল্লিশ ছুঁই ছুঁই , তবে দুজন কেই মানাবে। ধনাদার দিদি জামাইবাবু বিয়েটা ঠিক করেছে। পারে শুক্র বারেই বিয়ে ,তাই সবাই একসাথে গেলাম ওর জন্যে ধুতি পাঞ্জাবির অর্ডার দিতে। 

সবাই বেজায় খুশি , সবাইকে নিয়ে জনা ৫৫ বরযাত্রী। কিন্তু অবাক কান্ড ধনাদা ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাবে , গাড়িতে যাবেনা। কিন্তু ঘোড়া পাবে কোথায় এখন ?চারদিকে খোঁজ করেও ঘোড়া পাওয়া গেলোনা। তবে ঘোড়া নিজে ধনাদাই ঠিক করে ফেললো , কি না কুলু বাড়ীর ঘান টানা ঘোড়া নিয়ে যাবে। সে এক পাগলামো মনে হলো ,কারণ সে ঘোড়া ভালোকরে হাটতেই পারেনা। যাইহোক সেইমতো আমরা সবাই বরযাত্রী সেজে পৌছালাম মেয়ের বাড়িতে। দানাদার ঘোড়া তখন  ও পৌঁছায়নি ,অনেক পরে কোনোক্রমে ঘোড়া নিয়ে বরের আগমন ঘটলো , দেখলাম ধনাদাকে বরের বেশে হাতে একটা বন্দুক নিয়ে। বন্দুকটি ধনাদাদের পরিবারের পুরোনো স্মৃতি কিন্তু রীতিমতো লাইসেন্স প্রাপ্ত।  

বিয়ে মিটে গেলো সুন্দর ভাবে ,কারণ কোনো দেনা  পাওনার ব্যাপার ছিলোনা। তবুও যথাসম্ভব সংসারের সব জিনিসপত্র দিয়েছিলো মেয়ে পক্ষ। আদর আপ্পায়নে সবাই খুশি। 

রাত্রেই বরযাত্রী সবাই ফিরলো ,কিন্তু আমরা চার বন্ধু ওর সাথে থেকে গেলাম , বাসর জাগলাম। ধনাদা কিন্তু চুপ চাপ রইলো। 

যাহোক সকালে ব্রেকফাস্ট করে ,বাসি বিয়ের কাজ সেরে আমরা সবাই বেরোনোর জন্যে তৈরি। ধনদা বউকে ঘোড়ায় চেপে নিয়ে আসবে , সে আর এক কান্ড , যা হোক আমরা গাড়িতে চেপে আস্তে আস্তে পেছনে পেছনে আসছিলাম কিন্তু দুজনকে নিয়ে ঘোড়া বেচারা এগোতেই পারছিলোনা। অগত্যা আমরা গাড়ি থেকে নেমে ওদের পিছু নিলাম। 

হটাৎ ঘোড়াটা একটা হোসট খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। আর ধনা বললো এই ঘোড়া এর পর আর যেন এমন না হয় ?এই এক গুনলাম !

কিছুক্ষন পরে আবার এক ভাবে ঘোড়াটা হোঁচট খেলো আর ধনা চিৎকার করে বললো এই দুই বার হলো ? দুই গুনলাম ! সাবধান হয়ে যা। আমরা সবাই হাসতে হাসতে চল লাম। 

কিছুদূর যেয়ে ঘোড়াটা এক ই  ভাবে হোঁচট খেলো ,কি আর করবে বেচারা বুড়ো ঘোড়া ? কিন্তু অবাক হলাম গুলির আওয়াজে , তৃতীয় বার হওয়ার সাথে সাথে ধনা ঘোড়াটিকে গুলি করে দিলো। 

রাস্তার একদিকে প্রাণহীন নিথর ঘোড়াটি পড়ে রয়েছে আর অন্যদিকে নতুন বৌদি ভয়ে থর থর করে কাঁপছে।

একি করলো ধনাদা ? তবে শুনেছি বেশি বয়সে বিয়ে করেও ধনাদা আজীবন বউকে নিয়ে সুখে ছিল ,তাকে কোনো দিন দুই এর বেশি তিন পর্যন্ত গুনতে হয়নি। 




মন্তব্যসমূহ

Popular post

The memorable event in my life আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা

 জীবনের কিছু ঘটে যাওয়া স্বরণীয় ঘটনা  তখন আর্টিকেলশিপ করি ,তাই অডিটের কাজে প্রায় ই  বাইরে যেতে হতো ,সেবার কোলফিল্ডস এর অডিট এ  বিলাসপুর গিয়েছিলাম। কিন্তু জায়গাটি বিলাসপুর থেকে অনেক ভিতরে ,তাই বিলাসপুর থেকে আবার  ট্রেনে উঠে অনুপপুর যেতে হবে। সেখান থেকে কোম্পানির গাড়িতে কোৎমা যেতে হবে আমাকে। বাকিরা ওই ট্রেনেই পর পর আমলাই ,বীরসিংপুর এ যাবে।  সেইমতো সবাই বিলাসপুর থেকে ট্রেনে উঠে পড়লাম। অনুপপুর সবার আগে এল ,তখন রাত সাড়ে ৯ টা বাজে।সবাইকে টা টা  করে স্টেশনে নেমে পড়লাম। স্টেশন এর বাইরে  SECL এর গাড়ী থাকবে , সাি মতো বাইরে বেরিয়ে গাড়ী খুঁজতে লাগলাম ,কিন্তু পেলাম না। তাই টেনশন বাড়তে লাগলো। আমি জানি যে আমাকে কোৎমা  SECL এর GUST HOUSE  এ যেতে হবে। গাড়ী ভাড়া খুজতে লাগলাম ,কিন্তু জানলাম সেটি অনেক দূর ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার হবে ,আর এত রাতে কেউ ওদিকে যাবে না। কিন্তু বাস বা ট্রেনে  যাওয়া যায়. রাতে ট্রেন নেই কিন্তু ১০.৪৫ সে লাস্ট বাস ছাড়বে। তরি ঘড়ি করে বাস এ উঠে পড়লাম।  বাস ছাড়লো কিন্তু নামবো কোথায় জানিনা। বাস কন্ডাকটর কে বললাম আমার যাওয়ার...

The story of the failure of life. জীবনের ব্যার্থতার গল্প বিশ্বের সেরা দশজন সফল মানুষের

The story of the failure of life.বিশ্বের সেরা দশজন সফল মানুষের জীবনের ব্যর্থতার গল্প আলবার্ট আইনস্টাইন:  আলবার্ট আইনস্টাইন একজন সুপরিচিত বিজ্ঞানী এবং অসাধারণ প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব যিনি বিজ্ঞানের প্রতি তার মহান আবিষ্কার এবং অবদানের কারণে সারা বিশ্বে আমাদের প্রায় সকলেই পরিচিত। তিনি উদ্ধৃত করেছেন যে সাফল্য হল অগ্রগতিতে ব্যর্থতা এবং যে ব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয় না সে সত্যিকারের সফল ব্যক্তি হতে পারে না। শৈশবকালে, তিনি ক্রমাগত ব্যর্থতার শিকার হন। এমনকি নয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন না যার পরে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু, ধারাবাহিকভাবে তিনি নিজেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাগরে একটি বিখ্যাত রত্ন হিসাবে প্রমাণ করেছিলেন এবং অবশেষে 1921 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। আব্রাহাম লিঙ্কন:  এই মহান ব্যক্তিত্ব যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিও ছিলেন তিনি বছরের পর বছর নিয়মিতভাবে ব্যাপক ব্যর্থতার শিকার হয়েছেন। 1831 সালে লিঙ্কন তার ব্যবসায় ব্যর্থ হন এবং তারপরে 1836 সালে তিনি একটি বড় স্নায়বিক ভাঙ্গন পান। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহি...

Amar Chele bela আমার ছেলে বেলা

জীবনে আমি কোনো বিশেষ স্থানে উপনীত হতে না পারলেও সবার মতো আমারও একটা ছোট বেলার কাল ছিল বৈকি ,যেমন সকলের থাকে ,তাই এই নিবেদন আপনাদের জন্যে।  আজকের অনুভূতিতে বলছি , স্কুলে জাওযার পথটা অনেক দূরে মনে হতো,কেন জানিনা। সেই কদমতলা মোর থেকে ডানদিকে বেঁকে ভোলাদের বাড়ির পেছনের রাস্তা দিয়ে বেনেদের ঘাট ,কালীমন্দির পেরিয়ে ডানদিকে ঢুকে স্কুলের গেট। সে এক লম্বা জার্নি , সে আবার দিনে দুবার করে , সকালে আবার দুপুরে টিফিন খেতে বাড়িতে আসা ,আবার যাওয়া। কিন্তু দূরত্ব ছিল ৭৫০ মিটার যেটা এখন বুঝতে পারছি।  সবমিলিয়ে এক দুরূহ সুন্দর অনুভূতি ,মনে হত স্কুলটা যদি বাড়িতে হতো তাহলে কত ভালো ছিল। তবে বাড়িতে স্কুল হলে রাস্তার এবং স্কুলের বদমহেসি গুলো যে করতে পারতাম না সেটা তখন কিন্তু মাথায় আসেনি।  যাইহোক স্কুল, বাড়ি আর খেলার মাঠ ,এই ছিল আমার বিশেষ গণ্ডি। মাঝে মধ্যে অবশ্য আসে পাশের বাড়ীর উঠোন খেলার মাঠে পরিণত হতো।  স্কুলের পড়াশুনার ব্যাপারে একটাই জিনিস মনে আসে ,মাস্টার মশাইদের হাতে মার খাওয়ার কথা, তা আবার বেতের ছড়ি দিয়ে ,হাতে রীতিমতো দাগ পড়ে যেত আর ভীষণ যন্ত্রনায় হতো। বাড়িতে সেকথা বলা যেত না কারণ বল...