বন্ধুর বিয়ের গল্প কাহিনী
পাড়ার দাদা ধনা ,বয়সে আমাদের থেকে বড় হলেও বিয়ে করেনি ,তাই সবাই মাঝে মধ্যে তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। সবাই ধরে নিয়েছে ধনা আর বিয়ে করবে না। কারণ বয়স পেরিয়ে গেছে বৈকি।
হটাৎ একদিন দেখলাম ধনাদার মুখে স্মিত হাসি আর সবাই তাকে ঘিরে গল্প করছে মোড়ের মাথায়। জানলাম দানাদার বিয়ে ঠিক হয়েছে পাশের গ্রামে। মেয়ের বয়স ও চল্লিশ ছুঁই ছুঁই , তবে দুজন কেই মানাবে। ধনাদার দিদি জামাইবাবু বিয়েটা ঠিক করেছে। পারে শুক্র বারেই বিয়ে ,তাই সবাই একসাথে গেলাম ওর জন্যে ধুতি পাঞ্জাবির অর্ডার দিতে।
সবাই বেজায় খুশি , সবাইকে নিয়ে জনা ৫৫ বরযাত্রী। কিন্তু অবাক কান্ড ধনাদা ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাবে , গাড়িতে যাবেনা। কিন্তু ঘোড়া পাবে কোথায় এখন ?চারদিকে খোঁজ করেও ঘোড়া পাওয়া গেলোনা। তবে ঘোড়া নিজে ধনাদাই ঠিক করে ফেললো , কি না কুলু বাড়ীর ঘান টানা ঘোড়া নিয়ে যাবে। সে এক পাগলামো মনে হলো ,কারণ সে ঘোড়া ভালোকরে হাটতেই পারেনা। যাইহোক সেইমতো আমরা সবাই বরযাত্রী সেজে পৌছালাম মেয়ের বাড়িতে। দানাদার ঘোড়া তখন ও পৌঁছায়নি ,অনেক পরে কোনোক্রমে ঘোড়া নিয়ে বরের আগমন ঘটলো , দেখলাম ধনাদাকে বরের বেশে হাতে একটা বন্দুক নিয়ে। বন্দুকটি ধনাদাদের পরিবারের পুরোনো স্মৃতি কিন্তু রীতিমতো লাইসেন্স প্রাপ্ত।
বিয়ে মিটে গেলো সুন্দর ভাবে ,কারণ কোনো দেনা পাওনার ব্যাপার ছিলোনা। তবুও যথাসম্ভব সংসারের সব জিনিসপত্র দিয়েছিলো মেয়ে পক্ষ। আদর আপ্পায়নে সবাই খুশি।
রাত্রেই বরযাত্রী সবাই ফিরলো ,কিন্তু আমরা চার বন্ধু ওর সাথে থেকে গেলাম , বাসর জাগলাম। ধনাদা কিন্তু চুপ চাপ রইলো।
যাহোক সকালে ব্রেকফাস্ট করে ,বাসি বিয়ের কাজ সেরে আমরা সবাই বেরোনোর জন্যে তৈরি। ধনদা বউকে ঘোড়ায় চেপে নিয়ে আসবে , সে আর এক কান্ড , যা হোক আমরা গাড়িতে চেপে আস্তে আস্তে পেছনে পেছনে আসছিলাম কিন্তু দুজনকে নিয়ে ঘোড়া বেচারা এগোতেই পারছিলোনা। অগত্যা আমরা গাড়ি থেকে নেমে ওদের পিছু নিলাম।
হটাৎ ঘোড়াটা একটা হোসট খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। আর ধনা বললো এই ঘোড়া এর পর আর যেন এমন না হয় ?এই এক গুনলাম !
কিছুক্ষন পরে আবার এক ভাবে ঘোড়াটা হোঁচট খেলো আর ধনা চিৎকার করে বললো এই দুই বার হলো ? দুই গুনলাম ! সাবধান হয়ে যা। আমরা সবাই হাসতে হাসতে চল লাম।
কিছুদূর যেয়ে ঘোড়াটা এক ই ভাবে হোঁচট খেলো ,কি আর করবে বেচারা বুড়ো ঘোড়া ? কিন্তু অবাক হলাম গুলির আওয়াজে , তৃতীয় বার হওয়ার সাথে সাথে ধনা ঘোড়াটিকে গুলি করে দিলো।
রাস্তার একদিকে প্রাণহীন নিথর ঘোড়াটি পড়ে রয়েছে আর অন্যদিকে নতুন বৌদি ভয়ে থর থর করে কাঁপছে।
একি করলো ধনাদা ? তবে শুনেছি বেশি বয়সে বিয়ে করেও ধনাদা আজীবন বউকে নিয়ে সুখে ছিল ,তাকে কোনো দিন দুই এর বেশি তিন পর্যন্ত গুনতে হয়নি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন