প্রথম বিড়ি টানার গল্প
গোপাল দা আমার থেকে বয়সে ৩-৪ বছরের বড় ছিল ,কিন্তু খুব ই বন্ধুসুলভ ,ওর বাবা ছিল স্কুলের বড়বাবু। আমাদের বাড়িতে প্রায় ই আসতেন ,আর এলে তামাক সাজিয়া দিতে বলতো বাবা আমাকে। একটা মাটির পাত্রে ধানের তুষ আর গোবরের ঘুঁটের আগুন থাকতো ,তামাকের কল্কিতে একটু মাখা তামাক দিয়ে তার ওপর ঘুঁটের একটা জ্বলন্ত আগুন দিয়ে মুখ দিয়ে ফু দিলেই হতো। তার পর নারকেলের খোলের দ্বারা নির্মিত কাঠের রড লাগানো একটি ছিলুম এ লাগিয়ে দিতাম। একাজটি অনেক সময় কেউ এলে অথবা বাবাও আমাকেই বানিয়ে দিতে বলতেন। আর সেটা থেকেই ছেলেবেলায় ছিলুম টানার একটা ইচ্ছা মনের মধ্যে বার বার ঘুরপাক খেত ,কিন্তু ভয়ে করতাম না। যদি কাশতে কাশতে শরীর খারাপ করে তাই. তবে গোপালকে দেখেছি লুকিয়ে লুকিয়ে বিড়ি খেতে ,তাই গোপালের কথাও বার বার মনে পড়তো যে ওর সাথে একদিন বিড়ি টেনে দেখবো কেমন লাগে।
সেইমতো সুযোগ খুঁজতে লাগলাম। আমাদের বাড়ীর পেছনে একটা বাগান ছিল, তার পেছনে একটা পানের বারোজ আর তার পিছনে পুকুর। পুকুরের তিন দিকে দেয়াল। দেয়ালের ওপর বা সাইড এ উত্তম জায়গা। কেউ দেখতে বা বুঝতে পারবেনা।
গোপালকে সাহস করে একদিন বলেই ফেললাম ,আর ও তো এক পায়ে রাজি।
ব্যাস ,আর কে দেখে ,দুজনে বিকেলে দেয়াল এ চড়ে গেলাম। ও বিড়ি ধারালো ,আমার বুকটা ধুক ধুক করছে , একটা বিরাট উত্তেজনা , হাতে নিয়েই চারদিকে একবার দেখে নিয়ে টান মারলাম। কিন্তু গন্ধ ছাড়া কোনো স্বাদ পেলাম না ,অল্প অল্প একটু কাঁশি এলো তার পর মাথাটা কেমন যেন ঝিন ঝিন করলো।
সেই থেকে প্রায় ই ওখানে বসে গোপালের সাথে বিড়ির স্বাদ নিতাম।
সেই স্মৃতি আজও স্পষ্ট। কেমন লাগলো একটা বাজে নেশার স্মৃতি ?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন